Monday, 30 November 2015

সেবা ধ্যান সাফল্য এবং আনন্দ - শ্রী শ্রী রবিশঙ্করজীর মুখনিঃসৃত কয়েকটি বাণী

Here is Parampujya Gurudev's few famous quotes on Meditation and Seva and how they are related with Happiness and Success alongwith simple translation in bengali.

Gurudev says :

Meditation is when the mind is alert and all other organs are in deep rest.
Meditation is not going somewhere ;
it's diving deep inside .... this moment .

ধ্যান তখনই লাগে,
যখন মনের জ্যোতি জাগে;
আর সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেয় গভীর বিশ্রাম ।
ধ্যান নয়কো কোথাও যাওয়া,
ধ্যান নিজ গভীরে ডুব দেওয়া;
এখনি নিজ অন্তরে খুঁজে নেওয়া প্রাণের-আরাম ।

If you are not having good experiences in Meditation , then do more Seva - you will get merit and your meditation will be deeper.

Seva brings merit, merit allows you to go deep into meditation ; meditation brings back your smile !

যদি না পাও ধ্যানে তোমার কাম্য অভিজ্ঞতা ,
জোর দাও সেবায় যা বাড়াবে ধ্যানের  'অনুভব-পাত্রতা' ।

সেবার দ্বারাই হবে তোমার সে  যোগ্যতা অর্জন;
গভীর হবে ধ্যান, হবে হাসি-আনন্দের পুনরাগমন । 

Pleasure simply brings more craving. But, we try to get contentment through pleasure.
True contentment can only come through service.

সুখ জাগায় সুখ-চাহিদা মনে আরো আরো ,
সুখ-ই সন্তুষ্টিলাভের চাবি তোমরা মনে করো ।।

জেনো মনে 'সুখ' কখনো আনেনা সন্তুষ্টি ,
সেবাই উপায় আনন্দের, সেবাতেই আসে তৃপ্তি ।।

When you make service the sole purpose in life, it eliminates fear, focuses your mind, and gives you meaning.
Be grateful for any opportunity to do seva.

সেবা যখন জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়
আর থাকেনা ভয়, মন একমুখী হয় ।

জীবন খুঁজে পায় এ জীবনের মানেখান,
কৃতজ্ঞ থেকো পেলে অবসর করতে সেবাদান । 

Behind everything is your ego: I, I.
But in seva there is no I, because it has to be done for someone else.
Seva is just an expression for our inner love.

সব ঘটনার পিছনে থাকে কেবল অহংকার ;
সেবা নিঃস্বার্থ, তাতে আমিত্ব থাকেনা আর ।

সেবা অপরের তরে-তাতে থাকেনা নিজের জন্য কোনো আশ ,
সেবা আমাদের অন্তরের ভালোবাসারই  বহিঃপ্রকাশ ।

Success is an attitude, not a phenomenon.
The sign of success is an everlasting smile.

'সাফল্য' এক মনোভাব মাত্র,
নয় রে ঘটনা;
অক্ষয় হাসি-ই সাফল্যের চিহ্ন,
অন্য কোন কিছুনা ।

The goal of spirituality is to bring such happiness, which nobody can take away from you.

আধ্যাত্মের লক্ষ্যই হোল জীবনে আনন্দ ডেকে আনা,
যা আর কেউ কখনো কেড়ে নিতে পারেনা । 

।। জয় গুরুদেব ।। 

Compiled and translated By - Vijaya lakshmi Goswami/Lahiri 

Friday, 25 September 2015

'দূর্গোৎসব / নবরাত্রির তাৎপর্য '

নবরাত্রির মানে হল 

'নূতন রাত্রি '  বা ' নয়টি রাত ' ।
'রাত্রি' - রা' ও 'ত্রি'
রা মানে বিশ্রাম পাওয়া , কিসের থেকে ? 'ত্রি' অর্থাত্ তিন প্রকার সমস্যার থেকে বিশ্রাম ।
আমাদের সমস্যা তিন প্রকারের । শারীরিক,  মানসিক এবং ঘটনাজনিত অর্থাৎ বাহ্যিক । এই তিন ধরনের সমস্যার হাত থেকে পরিত্রাণ হয় কেবল গভীর নিদ্রাকালে । মানুষ এমনকি জীবজন্তুরও ঘুমের সময় কোন চিন্তা থাকেনা । সে সুখি বা দুঃখি যেমন মানুষই হোন না কেন , নিদ্রায় সকলেই সমান ।
নূতন রাত্রি - আমাদের মায়ের গর্ভে নমাস থাকার পর যেমন আমরা পূর্ণ এক নতুন জীবন পাই, ঠিক তেমন এই নব-রাত্রিও আমাদের পূনর্জীবিত করে, জীবনীশক্তি ও উর্জায় ভরিয়ে দেয় । আমাদের সব নাকারাত্মক ভাবনা মিটিয়ে জগদ্জননী তাঁর দৈবী সাকারাত্মকতা দিয়ে আমাদের চেতনশক্তি ভরিয়ে দেন । 

দেবী অসুরদলনী । মধু এবং কৈটভ  এই দুই অসুরের নাম আমরা সবাই শুনেছি । আকর্ষণ ও বিকর্ষণ - ই মধু এবং কৈটভ । মা আকর্ষণ ও বিকর্ষণ থেকে মুক্তি দিয়ে আমাদের সকেন্দ্রিত করেন ।

অনেকসময় আমাদের ব্যবহার আচরন চেয়েও আমাদের বশে থাকেনা । এগুলি যেন রক্তে বসে থাকা দানব । এই অসুর টির নাম রক্তবীজাসুর ।
দেবীর আরাধনা, এই বিশেষ নবরাত্রি সাধনা এবং ধ্যান আমাদের সেই শক্তি প্রদান করে যা দিয়ে আমরা নিজেদের ভিতরে বসে থাকা অসুরী শক্তিকে জয় করতে পারি ।

আরো কয়েকটি অসুরের নাম এখানে বলা উচিৎ , মহিষাসুর, শূম্ভ এবং নিশূম্ভ । এই অসুরি গুণগুলি যথাক্রমে আমাদের আলস্য , নিজের ও পরপ্রতি সন্দেহ । চন্ড, মূন্ড এবং ধূম্রলোচন হলো বিরোধিতা এবং অজ্ঞতা এবং অস্বচ্ছ দৃষ্টি । দেবীর বরে আদিশক্তি মহামায়ার শক্তি ছাড়া এই দুর্গুণগুলি জয় করা সহজ নয় । তাই মহামায়ার বন্দনা ।।

নদিনের প্রথম তিন দিন তমোগুণ নিবারিনী , দ্বিতীয় তিনটি দিন রজোগুণ নিবারিনী এবং তৃতীয় তিনটি দিনে স্বতঃগুণের বৃদ্ধিতে এই দুই গুণের বিজয় প্রাপ্তি । যখন স্বতঃগুণের বৃদ্ধি হয়, কেবল তখনই জীবন উৎসব হয়ে ওঠে । তাই এ তিনটি দিন কেবল আনন্দ , কেবলি উৎসব ।

বিজয়া দশমী চৈতন্যে এই সর্বোচ্চ গুণের সমাহারের জয়, সৎ এর স্বতঃ পরিস্ফুটন । 

বেদান্তিক নজরে দেখতে গেলে এ উৎসব কেবল ভালোর মন্দের ওপর বিজয় লাভ নয়, এ জয় সত্য এবং অদ্বৈতের বিজয়,  আপাতদৃষ্টিতে যে দ্বৈত নাম ও রূপে দেখি তদোপরি এ জয় ।।

শুদ্ধচৈতন্যরূপিনী দেবী নিজেই যে বিজয়ায় ঘটের সুতোটি কেটে শিবে লীন হয়ে যান আমাদের এই প্রার্থনা পূর্ণ করে "রূপং দেহি জযং দেহি যশো দেহি দ্বিশোযহী " ।

মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী , নাম রূপ থেকে চৈতন্য , এই-ই তো দূর্গোৎসব ।

"সর্বব্যাপিনী মহাযোগিনী শঙ্করপ্রিয়া দূর্গে .... "

।। জয় জয় মা ।।

Saturday, 1 August 2015

।। मोहना ।।

कहीं नाम बिना सुर बाजे ,
हार - बिना फूल साजे ,,
कहीं नाम बिना सुर बाजे ।।

बांसुरीया राधा राधा पुकारे ,
पैजनिया छुपे लाजे ।
कहीं नाम बिना सुर बाजे ।। 

कीन्हे निहारूं किसे पुकारूँ ,
लागे नहीं बाहर बिराजे,
नाम बिना सुर बाजे ।।

खिलखिल किलकारी खिले मुरलीधारी ,
वहीं बिराजे सब काजे ,,

कहीं नाम बिना सुर बाजे ।।

Friday, 24 July 2015

♥ SHRADDHA ♥

Saturday, 25th July 2015
KOLKATA

The first batsarik tirobhav tithi of Prabhupad Baidhyanath Goswami

I strongly believe theres nothing called our will, we may hav wishes - but the stirring of those wishes is in hand of almighty. Its His will how they could menifest.

My uncle by birth , by lords grace my mantradiksha guru , has passed away on Sunday, 6th July 2014 , at 4.30 pm. Tithi was navami, few hours before Lord Jagannath's ultarath last year.Today is His first death anniversary. A day prior to His death his Antarjali , releasing the wish to have him here anymore was done in manas.

Kulapurohit came few days back in my absence and declared that he is going to perform his shraddha on ekadashi, i.e. on Monday 27th july '15.Returning from school , I just got angry upon him. But it is the family tradition to obey this family's decision. Their generations has served our Sridhar Jiu for almost a century and includung dadu , my grandfather never used to oppose their ritualistic decisions. I too didnt oppose and accepted the date to sit for shraddha.

Thought to go to Shyamsunder temple on the way back to home from school today. Since last night was not feeling good and just wished to sit there silenly for few hours.

Shraddha, for me is manas. It cant be ritualistic though socially and religiously we do perform some.Sitting n surfing the net on ultarath which is going to happen tomorrow, got to see this. Debsayani ekadashi falls on this 27 th. What else could be there than this day !! Jagannath returns back to  his temple, Srivishnu even goes to sleep, pandanpur yathra begins, this Debsayani is the renunciation of all desires. For devotees it is the nirvikalpa. No sankalp no hence no vikalpa. Only bliss....

This lazy one, witnessing everything as your will ... and witnessing all is well and a beautiful Asadi Katha♥

Sunday, 19 July 2015

ভূমিকা

বেদান্তের কথা তো আমরা সবাই শুনেছি, জানি । কিন্তু একটা খটকা বোধহয় মনের মধ্যে রয়েই যায় । তিনি নিরাকার জেনেও সাকারে তাঁকে ডাকা যেন আরো সহজ - এই বোধ । মা সন্তানকে ভালোবাসেন, সে ভালোবাসা বোঝা যায় , তার অভিব্যক্তি আছে, তা দৃশ্য । কিন্তু ভগবানের ভালোবাসা আবার কিরকম , তাঁকে তো দেখাও যায়না । কাকে সাজাবো , কাকে যত্ন করবো , কেবা আমার একান্ত আপনজনের মতো আমার সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেবে ? 

ঠিক এখানেই শরীরধারী গুরুর প্রয়োজন । আমাদের দেহবোধ অশরীরী অব্যক্তকে হৃদয়ঙ্গম করতে বাধা দেয় । হাজার বেদান্তকথা শুনলেও মনকে একই জায়গায় বেঁধে রাখে । রূপ । নাম রূপের অতীত যিনি তাঁকে নামে ডাকার চেষ্টা - সাকাররূপে ধরার চেষ্টা ।

শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতে আছে - ঠাকুর বলেছেন -----

" দুই-ই সত্য। শুধু নিরাকার বলা কিরূপ জানো? যেমন রোশনচৌকির একজন পোঁ ধরে থাকে...... তার বাঁশির সাত ফোকর সত্ত্বেও। কিন্তু আর-একজন দেখ কত রাগ-রাগিণী বাজায়! সেরূপ সাকারবাদীরা দেখ ঈশ্বরকে কতভাবে সম্ভোগ করে ! শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য, মধুর.... নানাভাবে। 
কি জানো, অমৃতকুণ্ডে কোনও রকমে পড়া। তা স্তব করেই হোক অথবা কেউ ধাক্কা মেরেছে আর তুমি কুণ্ডে পড়ে গেছ, একই ফল। দুই জনেই অমর হবে!
ব্রাহ্মদের পক্ষে জল বরফ উপমা ঠিক। সচ্চিদানন্দ যেন অনন্ত জলরাশি। মহাসাগরের জল, ঠান্ডা দেশে স্থানে স্থানে যেমন বরফের আকার ধারণ করে, সেইরূপ ভক্তি হিমে সেই সচ্চিদানন্দ (সগুণ ব্রহ্ম) ভক্তের জন্য সাকার রূপ ধারণ করেন। ঋষিরা সেই অতীন্দ্রিয় চিন্ময় রূপ দর্শন করেছিলেন, আবার তাঁর সঙ্গে কথা কয়েছিলেন। ভক্তের প্রেমের শরীর, ‘ভাগবতীতনু’ দ্বারা সেই চিন্ময় রূপ দর্শন হয়। আবার আছে, ব্রহ্ম অবাঙ্মনসোগোচর। জ্ঞানসূর্যের তাপে সাকার বরফ গলে যায়। ব্রহ্মজ্ঞানের পর, নির্বিকল্পসমাধির পর, আবার সেই অনন্ত, বাক্যমনের অতীত, অরূপ নিরাকার ব্রহ্ম!
ব্রহ্মের স্বরূপ মুখে বলা যায় না, চুপ হয়ে যায়। অনন্তকে কে মুখে বোঝাবে! পাখি যত উপরে উঠে, তার উপর আরও আছে । "

তাই ব্রহ্মকথা শূনলেই আমাকে সাকার উপেক্ষা করতে হবে এমন নয় । শ্রীকৃষ্ণ যেমন ব্রজের রেণু রেণুতে ছড়িয়ে আছেন , তেমনি ব্রহ্ম এ জগতের কণা কণায় রয়েছেন , প্রতি জীবের মধ্যে আছেন - এ উপলব্ধিতেই সাকার-নিরাকারের মেলবন্ধন । 
তাই বেদান্তের সারকথা , তা-ই নিষ্কাম সেবার মূলমন্ত্র ।। 

সাকার যদি তোমায় দেখি তবে যেন সে দৃষ্টিতে প্রতিটি জীবের মধ্যে তোমায় দেখতে সক্ষম হই । নিজের সাথে যেমনি সাবলীল, অনায়াস ,, প্রত্যেককে যেন তেমনি করে আপন করে নিতে পারি - বাঙালীর প্রতিটি হৃদয়ে উচ্চারিত হোক আজ এই প্রার্থনা ।।

সনাতন ধর্মের সর্বপ্রধান ধর্মগ্রন্থ ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত আত্মজ্ঞানের 42 টি শ্লোক নিয়ে এই বেদান্ত-বইটির প্রথম বিভাগ ।
ভাগবদ্গীতার প্রতিটি অধ্যায় ,অতগুলি শ্লোক সাধারনের পক্ষে মননে আনা দুরূহ । তাই এই সহজ - বেদান্ত বইটিতে এই 42টি শ্লোক সাজানো হল। ইংরেজি অনুবাদের জন্য শ্রী রমনা মহর্ষির চরণে কৃতজ্ঞতা জানাই।
  
দ্বিতীয় আদিগুরু শঙ্করাচার্যের 'ভজ গোবিন্দম্' ভগবৎ পদাবলী । জগদগুরু কাশী বেনারসের ঘাটে এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণকে আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যাকরণ রপ্ত করতে দেখে ভজ-গোবিন্দম্ গেয়েছিলেন । তার বারোটি মূখ্য শ্লোক নিয়ে এই 'ভগবৎ-পদ ' ।।

উপনিষদ-ই বেদান্তের মূলসূত্র । তাই তৃতীয় ও চতূর্থ ভাগে আছে ছোট্ট দুখানি উপনিষদ । শুক্ল-যজূর্বেদ ও অথর্ববেদ থেকে নেওয়া 'ঈশাভাষ্য' ও 'মাণ্ডূক্য' -  সেইসাথে গৌড়পদের মাণ্ডূক্য কারিকা । 
'ঈশাভাষ্য' - আঠারো শ্লোকের এই উপনিষদ, অদ্বৈতবেদান্তরত্ন শঙ্কর যে ঈশা-অর্থে অদ্বিতীয় আত্মা এবং দ্বৈতবেদান্ত অনুসারে মাধবাচার্য তাঁর ভাষ্যে ঈশা অর্থে শ্রীবিষ্ণু এবং তাঁতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান করেছেন ।। 

'মাণ্ডূক্য'  উপনিষদ প্রনব বা ওম্-কারের চরন । চেতনের চার স্তর ও ওম্-এর চার চরণময় এ উপনিষদ বারোটি শ্লোকে বিস্তৃত ।। গৌড়পদের 'কারিকা'য় এই উপনিষদেরই বিশ্লেষণ ।।

পঞ্চম ভাগে আছে অষ্টবক্র গীতা । রাজা জনক ও অষ্টবক্র মুনির মধ্যে আত্মজ্ঞানের উপর যে কথোপকথন হয়েছিল ,  আঠারোটি অধ্যায়ে বিস্তৃত এ এক অনবদ্য গান, যা 'অষ্টবক্র গীতা' নামে বিখ্যাত ।

ষষ্ঠ ও অন্তিম চরণে রয়েছে অদ্বৈত বেদান্তের আরেক অনবদ্য সৃষ্টি । 'দৃগ্দৃশ্য বিবেক ' যা না পড়লে নির্গূণ ব্রহ্মের কল্পনাও আসেনা । ধ্যান, সমাধি, সবিকল্প ও নির্বিকল্প , দৃশ্য থেকে দ্রষ্টা। স্বরূপ থেকে অরূপ । এর অনুবাদ সহজ নয় , স্বামী প্রজ্ঞানন্দজী এই অনুবাদটির পাণ্ডুলিপির কয়েকটি জায়গা সঠিক করে দিয়েছেন , স্বামী নির্গূণানন্দজী এই বইএর প্রকাশনায় যথেষ্ট সহায়তা করেছেন, তাঁদের সহৃদয় সাহায্যে আমি কৃতজ্ঞ ।

শ্রী বিবেক দেবরায় এই বইখানি লেখার মূল প্রেরণা । বাংলার মাটি থেকে সহস্র ক্রোশ দূরে থেকেও বাংলা ভাষা, বাংলার মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় । বাংলা মায়ের যে কৃতি সন্তানরা আজ ভারতের গৌরব , তাঁদেরই একজন আমাদের এই বিবেকদাদা । বেদান্তির জীবনই যে বেদান্ত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা ।। 

কৃতজ্ঞতা বেদান্ত সোসাইটির ভগবানকে,প্রত্যেকের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম স্নেহ বড় সহজ ,বড় আপন । 'মায়ের বাড়ি' ও 'বেদান্ত' যে কত দুঃখীজনের সাহারা হয়ে উঠেছে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন । পাওয়ার চেয়ে দেওয়ার আনন্দ কতখানি বেশী তাঁর জীবনী এর উদাহরণ ।।     

গুরুজীর কথাই বা কি বলি !! ভারতের একতার বাণী ও বেদান্তের ঐশর্যকে জগতের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেবার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন , তাঁর সেই সংকল্পশক্তি অতুলনীয় । তদোপরি যে যেমন তাকে ঠিক সেইভাবে স্বীকার করা এ কি সহজ কাজ !! স্বামী শ্রদ্ধানন্দজী যেন সেই শক্তিরই প্রতিবিম্ব ।

সবশেষে যাঁর চরণে আমার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজ এখানে এই লেখাটি শেষ করবো তিনি স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী । ঠাকুর মা ও স্বামীজীর আদর্শে অনুপ্রাণিত এই মহাত্মা জীবসেবায় আত্মদান করেছেন, তিনি আমাদের সবার প্রণম্য । বাংলার সাধারন মানুষের জন্য লেখা - একথা শোনামাত্র তিনি তাঁর অমূল্য সময় দিয়ে যে সহযোগীতা করেছেন , তা অনস্বীকার্য ।।

 

Saturday, 18 July 2015

।। উৎসর্গ ।।

গত অক্ষয় তৃতীয়ার আগের দিন সোমনাথদার পালার দিন আমাদের খড়দা শ্রীরাধাশ্যামসুন্দর মন্দিরের রাসমঞ্চের সামনে আমাদের এক জ্ঞাতি ও গুরুজন প্রভুপাদ শ্যামল গোস্বামীর সঙ্গে হঠাৎই দেখা হয় । কথাপ্রসঙ্গে উনি বলেন , ''আমাদের গুরুবংশে তো ঘরে ঘরে মন্ত্র , নিত্যানন্দ বংশের সেই গুরুপরম্পরা হারিয়ে যেতে দিওনা, বৈদ্যনাথদার বয়স হয়েছে , হয়তো আর বেশীদিন নেই , চলে যাবার আগে নিয়ে রাখো । '' 

সেদিন ওঁ-কার মাথায় ধরা ওই খালি রাসমঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর অসীম স্নেহের কথাই প্রথমে মনে এসেছিল । যা লিখতে গেলে একটা গ্রন্থ লেখা হয়ে যায় । আর বেশিদিন নেই - একথা যেন বারবার কানে বাজছিল । পরদিন মনস্থির করে মন্ত্র নিয়েছিলাম কানে । ছোটো থেকে যখনই যা দিতে চেয়েছেন না বলে এসেছি । তাই সেদিন যখন গিয়ে বলি আজ তোমার কাছে কিছু চাইতে এসেছি বৃদ্ধ তাত একইসাথে অবাক ও খুশি হয়েছিলেন । জীবনের শেষ সময়ে তাঁর হাজারো শিষ্যের ভীড়ে তাঁর অতিপ্রিয়জনটিকে একজন করে পাবেন , হয়তো ভাবেননি ।

এর ঠিক চার সপ্তাহ পর ,অসুস্থ গুরুকে হসপিটালে ভর্তি হতে হয় । এই সময়ে সবকিছু নিয়েও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া অকৃতজ্ঞ আত্মীয় দেখেছি , বিরহে আকুল শিষ্য দেখেছি , অর্থের অহংকারের দান ও হাসিমুখে তাঁর তা ফিরিয়ে দেওয়া দেখেছি , নার্স-ডাক্তারের আপ্রাণতা দেখেছি, অসহ্য মৃত্যু-যন্ত্রণাতেও তাঁর ঠোঁটের কোনে লেগে থাকা তৃপ্তির হাসি - চোখে সবার জন্য সেই ভালোবাসা দেখেছি ।

দেড়মাস বাড়ি ফিরিনি । একইসাথে অন্য আরেকটি নার্সিংহোমে কিডনি-পেশেন্ট মা ভর্তি ছিলেন । দিনে হাসপাতাল , রাতে অষ্টাবক্র গীতা লিখতাম । তাই ছিল দিবাশেষের ক্লান্ত আমির আশ্রয় । 
রথের পর অষ্টমী-নবমীর মাঝে গুরু দেহ রাখেন । তাঁর শেষ ইচ্ছানুসারে আমি তাঁর মূখাগ্নি করি । সারাজীবন নিষ্কাম সেবায় কাটিয়ে হাসিমুখে চলে যাওয়ার একটি মাস আর কিছু না বলা কথা আমায় কলম ধরিয়েছে । আদি শঙ্করের 'ভজ গোবিন্দম্ ভগবদ্পদ' কি , তা দেখিয়েছে ।
শান্তি কোথায় , বন্ধন কি , মুক্তি কেমন , বেদান্ত অজান্তেই আমাদের জীবনের কতখানি জূড়ে আছে , ওঁমকার , ঈশ্বর , বিশ্বাস , গুরুতত্ত্বের অপার স্নেহের দান এই বেদান্তের মূল সুরটি কোথায় হয়তো আমার এই ক্ষুদ্র বইখানি পড়লে কিছুটা ধারনা করা যাবে । 

আমরা গৃহী , সংসারে থেকেও ঈশ্বরে কিভাবে ডুবে থাকা যায় তা ঠাকুর আমাদের শিখিয়ে গ্যাছেন । তিনি যে  বাংলার আধ্যাত্মজগতের কতখানি জুড়ে আছেন , তা উপলব্ধি করেছি যখন 'টাকা মাটি মাটি টাকা' র মতো মানিক্যগুলি লিখতে লিখতে মনের কুঠরি থেকে বেরিয়ে এসে প্রচ্ছন্নভাবে শব্দের আধার হয়েছে ।  

স্বামীজির বাড়ি আমার অতিপ্রিয় স্থান । কারণে অকারণে কিছু এক টান বারবার আমাকে টেনে নিয়ে যায় । তাঁর সেই বেদবাণী এ জীবন আমায় উপলব্ধি করিয়েছে । তাই সংসারের প্রতি কাজের মাঝে একথা আমি চুপিচুপি বলি ,

'এই জগতে ধনের সন্ধান করিতে গিয়া তোমাকেই শ্রেষ্ঠ রত্নরূপে পাইয়াছি; হে প্রভো, তোমারই নিকট আমি নিজেকে বলি দিলাম ।
ভালবাসার পাত্র খুঁজিতে গিয়া একমাত্র তোমাকেই ভালবাসার পাত্র পাইয়াছি। তাই তোমারই নিকট আমি নিজেকে বলি দিলাম।'  



Friday, 17 July 2015

*Guruvandana ।। গুরুবন্দনা ।।


बंदऊँ गुरु पद पदुम परागा।
सुरुचि सुबास सरस अनुरागा॥
अमिअ मूरिमय चूरन चारू।
समन सकल भव रुज परिवारू॥1॥ 

सुकृति संभु तन बिमल बिभूती।
मंजुल मंगल मोद प्रसूती॥
जन मन मंजु मुकुर मल हरनी।
किएँ तिलक गुन गन बस करनी॥2॥  


বন্দন করি গুরু চরণকমল-রেণু , 

( যেমন শ্রীহরিনাম গাহে বৃন্দাবন-রজ , রাখাল, ধেনূ .... )

সুরুচি সুবাসে পূর্ণ রজ , সহজ অনূরাগে , 

ভবরোগ মুক্তির উপায় এ সঞ্জিবনী প্রয়োগে ।।  

সুকৃতিরূপী শম্ভুর দেহের বিভূতি , 

সুশোভিত নির্মল , কল্যান আনন্দের প্রসূতি ।। 

ভক্তের মনদর্পনপরি ধূলিরে করেন নাশ , 

ভবগুণসমূহ গুরুচরনরজ-তিলকের দাস ।। 


These two Chaupais (Quartets) are the first two quartets of the Guru Vandana in the 'Bala Kaanda' of Sri Ramcharit Manas by Goswami Tulsidas composed in Avadhi language during the 15/16th century ; which means : 

I worship the Lotus feet of my Guru,who is full of the sweet nectar of Divine Love.He is like the Churna of the Sanjivani which cures all types of ailments that can afflict oneself in this world.

He is like the Divine Vibhuti (ash) on Lord Shiva's body which cleans the Mind of a Devotee & enables him/her to reflect the Divinity like a mirror reflects light & which when applied on the forehead (Tilak) enables one to conquer all the Gunas through which this creation works.